নয়নাভিরাম নৈনিতাল
কাশ্মীরের পর এবার এক অন্য জায়গার কথা বলব।এবারের গন্তব্য দেবভূমি উত্তরাখণ্ডের লেক শহর নৈনিতাল।উত্তর ভারতে চাকরি করতে এসে দেওয়ালির ছুটি কাটাবার পরিকল্পনারই রূপ এবারের ভ্রমণ।তো যেই মত ঠিক করা ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়া হল। ভোরের কাঠগোদাম শতাব্দীতে চড়ে মাত্র ৪ ঘন্টাতেই পৌঁছে গেলাম কাঠগোদাম।ছবির মত সাজানো একটা রেলস্টেশন। ট্রেনটা এসে দাঁড়াল একটা পাহাড়ের বুকে।স্টেশনের বাইরেই রয়েছে শেয়ার ট্যাক্সি। এরকমই একটা ট্যাক্সিতে উঠলাম,ভাড়া জনপ্রতি ৪০০ টাকা।তবে সিজনে নাকি আরো দাম বেড়ে যায়। বাসও আছে, কিন্তু মেলে কম।
যাবার পথে একটা পথচলতি দোকানে গরম গরম চা আর পকোড়া খেয়ে এবারের পাহাড় ভ্রমণকে সেলিব্রেট করলাম।
১৪৩২ মিটার লম্বা আর ৪৫৭ মিটার চওড়া। সবুজ রং এর বিশাল নৈনি সরোবরকে ঘিরে নৈনিতাল।গোটা শহরটা দুটো ভাগে বিভক্ত- আপার লেক বা মল্লিতাল আর লোয়ার লেক বা টল্লিতাল, “টল্লি” কথার অর্থ নাকি তলার অংশ। আমাদের হোটেলটা ছিল আপার লেক এ,জু রোডে।
তা হোটেলে গিয়ে স্নান সেরেই আগে চলে গেলাম বারান্দায়।বারান্দা থেকে লেক দেখা যাচ্ছে। লেকের উপর রোদ ঝিলমিল করে তাকে আরো নয়নাভিরাম করে তুলেছে। খাওয়াদাওয়া সেরে বিশ্রাম নিয়েই বিকেলে বেড়িয়ে পড়লাম লেকের ধারে হাঁটতে।গাছে ছাওয়া ঠান্ডি সড়ক নৈনিতালের আর একটা বড় আকর্ষন। ওখানে গেলে ওই সড়ক ধরে হাঁটা কিন্তু মিস করবেন না।
নৈনিতাল শহরের নামকরন কিন্তু হয়েছে নয়নাদেবীর জন্য।লেকের ধারেই নয়না দেবীর বিশাল মন্দির।আমরা যেসময় গিয়েছিলাম পুরো মন্দির চত্বর আলো দিয়ে সাজানোয় অপূর্ব লাগছিল।মন্দির লাগোয়া তিব্বতি বাজারটা কিন্তু এই শহরের আরও একটা বড় আকর্ষন।শপিং যাদের পছন্দ এখানেই কেটে যেতে পারে অনেকটা সময়। আমরাও দেখলাম নানারকম ক্যান্ডেল। হ্যাঁ, এই মোমবাতি শিল্প এই অঞ্চলের বিখ্যাত একটা শিল্প।
পরের দিন বেরনো ছিল,আমরা লেক ট্যুর নিইনি।ব্রেকফাস্ট করে বেড়িয়ে প্রথমেই শুরু করলাম হনুমানগড়িতে বজরংবলির পুজো দিয়ে। “গড়ি” কথার অর্থ সম্ভবত মন্দির।
এরপর দেখলাম অনেক কিছুই। ভাল লাগলো ইকো কেভ গার্ডেন।প্রাকৃতিক গুহাকে সামান্য সংশোধন করে তৈরি এই জায়গাটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের ভাল লাগবেই।একেকটা গুহার নাম একেক রকম, কোনটার টাইগার কেভ,কোনটার আবার মঙ্কি কেভ।
দেখলাম ঝরনা, নওকুচিয়া তাল।উপর থেকে বার্ডস ভিউতে দেখা নৈনিতাল বাড়তি পাওনা।কিন্তু একটা কারনে মনটা খুঁতখুঁত করছিল। রোপওয়ে চড়া হলনা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বন্ধ ছিল। বিকালে ফিরে গেলাম শিকারা ভ্রমনে। শিকারা বা বোট ভ্রমণের জন্য পুরো লেকটা তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘুরলাম মধ্যভাগে। ওঠবার সময় বেশ ভয় লাগছিল যখন দুলে উঠছিল। তারপর পাহাড় আর লেকের অপরূপ রূপ ভয়টাকে ভুলিয়ে দিতে পেরেছিল।প্রায় ৯০ ফিট গভীর জানার পরেও ভয় করছিলনা। যদিও জলের প্রতি ভয় আমার একটু বেশিই।
সন্ধ্যায় লেকের ধারে মার্কেট ঘুরে,কেনাকাটা সেরে, গরম কফি আর আলু টিক্কি খেয়ে ফিরলাম হোটেলের দিকে।তখনই শুরু হয়ে গেছিল দেওয়ালির আলোর খেলা।লেকের দুদিকের পাহাড় যেন আলোর মালায় সেজে উঠেছিল।বাজীর আওয়াজ ফিরে আসছিল অন্যদিকের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে।বারান্দায় বসে দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেকক্ষন। রাতের খাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম। বাইরে তখনো আলোর রোশনাই। কিন্তু আমাদের কাল সকালে উঠে বেরতে হবে যে। ছুটি শেষ,আবার ফেরা রোজকার ব্যাস্ত জীবনে।কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেন সংগ্রহ করে।
আবার নাহয় এমনি করেই বেড়িয়ে পড়ব কোন একটা নতুন জায়গার খোঁজে, কিম্বা এই দেখা জায়গাটাকেই আরো একবার নতুন করে জানতে।
<কিভাবে যাবেন? ঃ
ট্রেন- দিল্লী থেকে ১) কাঠগোদাম শতাব্দী বাসে কিভাবে যাবেন আনন্দবিহার বাস টার্মিনাস থেকে প্রতি ঘন্টাতেই এসি ও নন এসি বাস ছাড়ে, বেশিরভাগই যায় হলদুয়ানি অব্ধি।
থাকার জায়গা ১) হোটেল মহারাজা
১৪৩২ মিটার লম্বা আর ৪৫৭ মিটার চওড়া। সবুজ রং এর বিশাল নৈনি সরোবরকে ঘিরে নৈনিতাল।গোটা শহরটা দুটো ভাগে বিভক্ত- আপার লেক বা মল্লিতাল আর লোয়ার লেক বা টল্লিতাল, “টল্লি” কথার অর্থ নাকি তলার অংশ। আমাদের হোটেলটা ছিল আপার লেক এ,জু রোডে।
তা হোটেলে গিয়ে স্নান সেরেই আগে চলে গেলাম বারান্দায়।বারান্দা থেকে লেক দেখা যাচ্ছে। লেকের উপর রোদ ঝিলমিল করে তাকে আরো নয়নাভিরাম করে তুলেছে। খাওয়াদাওয়া সেরে বিশ্রাম নিয়েই বিকেলে বেড়িয়ে পড়লাম লেকের ধারে হাঁটতে।গাছে ছাওয়া ঠান্ডি সড়ক নৈনিতালের আর একটা বড় আকর্ষন। ওখানে গেলে ওই সড়ক ধরে হাঁটা কিন্তু মিস করবেন না।
নৈনিতাল শহরের নামকরন কিন্তু হয়েছে নয়নাদেবীর জন্য।লেকের ধারেই নয়না দেবীর বিশাল মন্দির।আমরা যেসময় গিয়েছিলাম পুরো মন্দির চত্বর আলো দিয়ে সাজানোয় অপূর্ব লাগছিল।মন্দির লাগোয়া তিব্বতি বাজারটা কিন্তু এই শহরের আরও একটা বড় আকর্ষন।শপিং যাদের পছন্দ এখানেই কেটে যেতে পারে অনেকটা সময়। আমরাও দেখলাম নানারকম ক্যান্ডেল। হ্যাঁ, এই মোমবাতি শিল্প এই অঞ্চলের বিখ্যাত একটা শিল্প।
| হোটেলের বারান্দা থেকে নৈনিলেক |
![]() |
| ইকো কেভ গার্ডেন |
দেখলাম ঝরনা, নওকুচিয়া তাল।উপর থেকে বার্ডস ভিউতে দেখা নৈনিতাল বাড়তি পাওনা।কিন্তু একটা কারনে মনটা খুঁতখুঁত করছিল। রোপওয়ে চড়া হলনা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে বন্ধ ছিল। বিকালে ফিরে গেলাম শিকারা ভ্রমনে। শিকারা বা বোট ভ্রমণের জন্য পুরো লেকটা তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘুরলাম মধ্যভাগে। ওঠবার সময় বেশ ভয় লাগছিল যখন দুলে উঠছিল। তারপর পাহাড় আর লেকের অপরূপ রূপ ভয়টাকে ভুলিয়ে দিতে পেরেছিল।প্রায় ৯০ ফিট গভীর জানার পরেও ভয় করছিলনা। যদিও জলের প্রতি ভয় আমার একটু বেশিই।
সন্ধ্যায় লেকের ধারে মার্কেট ঘুরে,কেনাকাটা সেরে, গরম কফি আর আলু টিক্কি খেয়ে ফিরলাম হোটেলের দিকে।তখনই শুরু হয়ে গেছিল দেওয়ালির আলোর খেলা।লেকের দুদিকের পাহাড় যেন আলোর মালায় সেজে উঠেছিল।বাজীর আওয়াজ ফিরে আসছিল অন্যদিকের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে।বারান্দায় বসে দেখতে দেখতে কেটে গেল অনেকক্ষন। রাতের খাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম। বাইরে তখনো আলোর রোশনাই। কিন্তু আমাদের কাল সকালে উঠে বেরতে হবে যে। ছুটি শেষ,আবার ফেরা রোজকার ব্যাস্ত জীবনে।কিছু সময়ের জন্য অক্সিজেন সংগ্রহ করে।
| দেওয়ালির রাতে নৈনিতাল |
আবার নাহয় এমনি করেই বেড়িয়ে পড়ব কোন একটা নতুন জায়গার খোঁজে, কিম্বা এই দেখা জায়গাটাকেই আরো একবার নতুন করে জানতে।
<কিভাবে যাবেন? ঃ
ট্রেন- দিল্লী থেকে ১) কাঠগোদাম শতাব্দী
- ট্রেন- কলকাতা বা হাওড়া থেকে ১) বাঘ এক্সপ্রেস
- ২) হাওড়া রামনগর এক্সপ্রেস
- ২) উত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস
- ৩) রানীখেত এক্সপ্রেস
- তবে এসি বাসের জন্য আগে থেকে বুকিং করে রাখতে হবে।
২) হোটেল গৌরি
৩) হোটেল হিমালয়া
- ৪) দ্য নৈনি রিট্রিট






